আমির উদ্দিন, গোয়াইনঘাট
বিয়ে সাদি ইসলামী শরীয়াহ আইন অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, ইসলাম ধর্মের ন্যায় অন্যান্য ধর্মেও বিয়েকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হযরত আদম (আ:) ও বিবি হাওয়ার মধ্যে বিবাহবন্ধনের মধ্য দিয়ে মুসলিমদের মাঝে বিয়ে প্রথা চালু হয়। কিন্তু সামাজিক অবক্ষয় আর ধর্মীয় অনুশাসন না মেনে সমাজে বিবাহ প্রথা সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি ও প্রথাকে অবমুল্যায় এবং অবমাননা করা হচ্ছে। যেখানে বাংলাদেশে পুরুষদের ক্ষেত্রে সর্ব নিম্ন বিবাহের বয়স ২১ বছর ও নারীদের ক্ষেত্রে ১৮ বছর করে আইন প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।
সেখানে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হরহামেশা চলে বিবাহ আয়োজন। এমনি এক ঘটনার ব্যত্যয় ঘটেনি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিসনাকান্দি ইউনিয়নে। ইউনিয়নের গোরাগ্রামের মৃত ময়নুল ইসলাম এর মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ১৬ বছরের কিশোরী হাফিজা আক্তার এর সাথে উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের নোয়াগাওঁ খুরী গ্রামের আনফর আলী ছেলে রাজু আহমদের সাথে। দুপুর ১২ ঘঠিকার সময় খবর পেয়ে হঠাৎ বিয়ে বাড়িতে হাজির হলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ওমর ফারুকের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল। এতে বিয়ে বাড়িতে আনন্দের পরিবর্তে শুরু হয় হৈ-চৈ। এতে মেয়ের মা অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে বিয়ে দিবেনা এমন শর্তে বিয়ে ভঙ্গ করা হয় এবং মুচলেকা আদায় করা হয়।
জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান মেয়ের বাল্যবিবাহ বিষয়টি আমাদের নিকট খবর আসলে, সাথে সাথে আমরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কে বিয়ে বাড়িতে পাঠাই এবং বিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হই। এবং ভবিষ্যতে এরকম হবেনা বলে আশ্বাস দেন মেয়ের অবিভাবক
২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন বাল্যবিবাহ এটা শুধু অমানুষিকতাই নয়, এটা হিংস্রতা, সতীদাহ প্রথার ভিন্নরূপ। তাহলে এর প্রতিষেধক কী? সমাধানই বা কী? আমার মনে হয়, গ্রামে-গঞ্জে মেয়েদের বাধ্যতামূলক অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো, যাতে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, সচেতনতা বাড়ে আর প্রতিবাদী ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। পাশাপাশি এর প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। এসব কাজ বাস্তবায়ন করলেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সম্ভব।