Oplus_131072
আলোকিত গোয়াইনঘাট :
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকায় মালিকের ইচ্ছে অনুযায়ী চলছে ইট ভাটায় ইট পোড়ানোর কার্যক্রম। আইন নীতি অমান্য করে ফসলী জমি নষ্ট করে রাস্তাঘাট ধ্বংস করে মেয়াধ উত্তীর্ণ ট্রাক্টর দিয়ে
কৃষি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় পাহাড় গড়ে তোলার মহোৎসব চলছে। আইন অমান্য করে ভেকু (এক্সেভেটর ) দিয়ে ফসলি জমির বুক চিরে উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) দেদারসে পাচার করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সালুটিকর এলাকায় দিনরাত ভেকু দিয়ে কৃষি জমি খনন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ মাটি কাটা নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন সহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয় অনৈতিক সুবিধা।
উপজেলার প্রায় ১১টি ইটভাটায় কৃষিজমি থেকে লুটে নেওয়া মাটির বিশাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
সোনার বাংলা এলাকার ‘সোনালী ব্রিক ফিল্ড’-এ মাটির স্তূপ এখন হিমালয় সদৃশ। এছাড়া সালুটিকর রোড সংলগ্ন রূপালী, পূবালী, এফবিসি-সহ সবকটি ব্রিক ফিল্ডেই দেখা গেছে মাটির বিশাল মজুদ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিত্রি মহল এলাকায় অবস্থিত ‘আদর্শ ব্রিক ফিল্ড’ ও আশপাশের ভাটায় মাটি সরবরাহের নেপথ্যে রয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়দের দাবি, মিত্রি মহল গ্রামের বাসিন্দা আতাই মেম্বারের ছেলে ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে হেলাল মিয়া ও নাছির মেম্বারসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।
আদর্শ ব্রিক ফিল্ডের ম্যানেজার মাটি ক্রয়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ফরিদ ভাই আমাদের কাছে মাটি বিক্রি করেন। আমরা শুধু টাকা দিয়ে সেই মাটি ক্রয় করি।”
কৃষি জমি ধ্বংসের এই ভয়াবহ চিত্র নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক জানান, কৃষি অফিসের লোকজন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত অভিযান চালানো হবে।
বিশিষ্ট জনের মতে ফসলি জমি আমাদের অন্ন জোগায়। এভাবে মাটি কেটে নিলে ভবিষ্যতে এই এলাকায় মরুভূমি হয়ে যাবে। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।” হতাশ একাধিক স্থানীয় কৃষক।
অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন কৃষি জমি রক্ষায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।